অবিক্রীত বেলুনগুলো হাওয়ায় উড়ছিল কিন্তু ইচ্ছামত ভেসে যেতে পারছিল না, দড়ি দিয়ে বাঁধা
ছিল গতি। সমীর দেখছিল ওদের...লাল, নীল, হলুদ, সবুজ নানা রঙের - কেমন যেন স্বপ্নিল চারিদিক।
- ভাই, ঐটার দাম কতো?
সম্বিত ফেরে সমীরের। সকাল থেকে বাজার মন্দা। ছোট বাচ্চা দেখে খুশি হয় সে।
- দশ টাকা।
- এতো! একটু কম করো।
সমীর দেখে মানুষদুটিকে। পরনে দামি পোশাক, হাতে দামি ব্র্যান্ডের ঘড়ি, অথচ...
- দশ টাকায় আজকাল কি হয় দিদি?
- বাজে কথা না বলে একটু কম করো।
সাত টাকা দিয়ে চলে যায় সেই মা তার শিশুকে নিয়ে। শিশু পিছন ফিরে তাকায় হাতে গোলাপী
বেলুন নিয়ে। দেখে সমীরকে। কিন্তু মিল পায় না নিজেদের সাথে। ছোটবেলার কথা মনে করে চোখের
কোণ চিকচিক করে ওঠে সমীরের, কয়েকবছর স্কুল গিয়েছিল সে। রদ্দির দোকান থেকে সস্তায়
খাতা কিনে আনতো তার বাবা। তারপর সবাই মিলে মুড়ি খেতে খেতে পুরোনো খাতাগুলো থেকে
না লেখা পাতা আলাদা করে নতুন খাতা বানাতো। হলদে হয়ে যাওয়া সেই নতুন খাতার পিছনের
পাতায় সমীর একদিন এঁকেছিল একটা মস্ত বড় প্লেন। মা হেসেছিল, আসলে প্লেনের আওয়াজ পেলেই
যে ছেলে আকাশ ছুঁতে চাইতো।
একসময় মা অসুস্থ হলে, সময় শেখালো সমীরকে দায়িত্বের কথা। সেই থেকে সমীরের নিজের কোনও
আহ্লাদ নেই, পরিবারের বাকি মানুষগুলোর অক্সিজেনের জন্য সে তার রূপকথার বই বন্ধ করে দিয়েছিল।
সমীর জানতো তার একটাই স্বপ্ন- ছোট ভাইটাকে স্বপ্ন দেখতে শেখানো।

ভালো লাগলো।❤️
ReplyDeleteKhub khub sundor..
ReplyDeleteDidi khub sundor laglo golpo ta
ReplyDeleteDidi golpo ta khub sundor laglo.....from bangla_sobdokotha....Debraj
ReplyDelete