তখন,
ওই কৃষ্ণচূড়া গাছটার ত্রিসীমানায় কেউ থাকে না।
তবুও,
নিজের সাথে দুটো কথা বলব উপায় নেই!
তখনই ঝরাপাতা ডাকে, নোনা বাতাস হাতছানি দেয়-
বড় দায় পড়েছে আমার যেন!
ওরাই বুঝি সবটা আমার!
আমি বুঝি কেউ নই?
আমার না হয় ঠিকানা বদলেছে
বাদলে নিঃশ্বাসে স্তব্ধ হই,
এলোমেলো বুকের মধ্যে বিলীন হই,
উৎকণ্ঠায় পুড়ে যাই!
তবু, আমি বুঝি কেউ নই?
সত্যিই বড় দায় পড়েছে!
যখন তখন ছলনা হাতছানি দেয়
শব্দহীন অক্ষরেরা সূর্যাস্ত শেষে নাম হয়ে আসে,
আমার চোখে ডুব দিতে চায় ফুলের গন্ধটকুও!
তবু, সই হওয়া কি এতই সহজ!
আমার জন্য আমি বুঝি কেউ নই!
এই তো সেদিন বড় হলাম
পাল্টে গেল পিছুটান আর
আমার দুচোখ জোড়া চেনা চারপাশ।
চাওয়া পাওয়ার মাঝে,
নতুন শিকড় ছড়ালাম ধূসর মাটির গর্তে
ওপ্রান্তে পৌঁছে দেখি
আমার দুর্বলতার আক্রমণ আমার দিকে
থমকে গেলাম। বুঝলাম,
আগুন নিয়ে ফিরলে
অপেক্ষায় থাকা তারারাও মিথ্যে বলে।
ফিসফিসিয়ে বাতাসও উইলাগা গুঁড়ো হয়ে যাওয়া গল্প বলে।
তাই তো বলি, সই হওয়া কি এতই সহজ!
রাগ করলে নাকি চাঁদ,
ভাবছো আমার খোঁজ নেবে না!
তুমি তো সেই রাতেই থাকো-
প্রভাতবেলায় চোখের জলের দায় নেবে কে?
ফুল! সেও তো ঝরবে -
সময়ের সাথে ঘড়ির কাঁটাও ঘুরবে -
ভালো আছি না খারাপ আছি!
দুঃখে আছি না সুখে আছি!
প্রেমে আছি না কলঙ্কে আছি!
আমি ছাড়া বুঝবে কে?
বুঝলেও বাস্তবতার দাম মেটাবে কে?
সই হওয়া কি এতই সহজ!
বুনো ঘাসের স্পর্শে ঘুরি তো আমি,
গোলাপের কাঁটা ভাঙ্গি তো সেই আমি,
ছলছলে চোখে কাজল লাগাই তো সেই আমিই
তবুও, অসময়ে নিজের সাথে দুটো কথা বলবো তার উপায় নেই!
আসলে নিজেকে নিজেই চোখের আঁড়াল করতে পারি না।
ভালোবাসা আর সময় ছাড়া জীবন থেকে কিছু চাই না
দিনে একবার হলেও বলতে ইচ্ছে করে -
ভালো থাকুক বৃষ্টি, ভালো থাকুক মেঠো পথ,
ভালো থাকুক সৃষ্টি, ভালো থাকুক মুহূর্তরা
বিনিময়ে সবাই তো কিছু চায়
আমি শুধু চাই গভীরতা।
প্রতিটি পদক্ষেপে বসন্তময় সুবাস আর
দু হাত বাড়ানো বিশ্বস্ততা।
তাই সই হওয়া কি এতই সহজ?
আমার জন্য আমিই আকাশ,
আমিই ভোর আর আমিই বৃষ্টি।।
