একটুখানি খোলা আকাশ দেখার সৌভাগ্য যে কবে হবে! নির্মল দীর্ঘশ্বাস ফেলে...সব সুখ বিলীন হয়ে গেছে মৃন্ময়ীর সাথে। মনে আনাগোনা করে মৃন্ময়ীর সাথে প্রথম দেখা হওয়ার দিনটি, কত ভালোবাসা ছিল দুজনের...কিন্তু তা যে পুরোপুরি ফাঁকি ছিল তখন বুঝতে পারেনি নির্মল আর আজ বুঝলেও বিশ্বাস করতে মন চাইছে না তার। সারা শরীরে যন্ত্রনা...পুলিশের মার যে কি মোক্ষম তা নির্মল খুব ভালো করে টের পাচ্ছে গত দশ দিনে। না, মৃন্ময়ী মরেনি কিন্তু নির্মল যাতে মরে তার উপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়েছে সে।@nilanjana সেদিন নির্মলের বাড়ির ছাদে দুজনের খুব কথা কাটাকাটি হয়েছিল। তাতে দোষের মধ্যে ভালোবাসার মানুষের মুখে নিজের চরিত্রের দুর্নাম শুনে মাথা ঠিক রাখতে পারেনি নির্মল, মৃন্ময়ীকে হালকা ধাক্কা দিয়ে নিজের উত্তেজনা প্রকাশ করতে গিয়েছিল। কিন্তু টাল সামলাতে না পেরে মৃন্ময়ী একতলার ন্যাড়া ছাদ থেকে নিচে পড়ে যায়। আর কি! তারপর যা হওয়ার তাই হলো, নির্মলের বিরুদ্ধে কেস ঠুকলো তার প্রিয়তমা আর তার বাড়ির লোকজন। সব প্রেম উড়ে গেল মুহূর্তের মধ্যে। নিজের ওপর খুব রাগ হয় নির্মলের, কেন যে ওত মাথা গরম হলো তার! ঝন ঝন শব্দে তালা খোলার শব্দ হয়। তারপর গরাদের ফাঁক দিয়ে উঁকি মারে খাকি পোশাকের মানুষটি। বলে,
- চলো, মেমসাব ডাকছে। আর বেশি ঘ্যান ঘ্যান না করে সব স্বীকার করে নিও, নয়তো আজও কপালে দুঃখ আছে তোমার।
- মেমসাব আবার কে? কাল অবধি তো তোমাদের বড়বাবুর প্রশ্নবাণে এমনিতেই প্রায় মরে আছি, নতুন করে আর কি দুঃখ পাবো বলত!
- তিনি বদলি হয়ে গেছেন, সেই জায়গায় আমাদের এখানে নতুন মেমসাব। খুব রাগী মনে হলো দেখে। তাই তুমিও সাবধান হয়ে যাও, বুঝলে?
নির্মল একটা প্রায় অন্ধকার ঘরে এসে পৌঁছলে তাকে একটা চেয়ারে বসতে দেওয়া হয়। একটু অবাক হয় সে, জবাই করার আগে এত যত্ন!
জুতোর মচমচ শব্দের সাথে সেই ঘরে ঢোকে মেমসাব। চোখ মেলে দেখে নির্মল...একটু অস্পষ্ট সামনের মহিলাটি কারণ মার খেয়ে খেয়ে নির্মলের চোখ দুটি ফুলে গেছে। তবু সে তার মধ্যেও বোঝে যে রীতিমত বাক্তিত্বময়ী তিনি।
- মদন, এমনভাবে কে মেরেছে!
পাশে দাঁড়ানো কনস্টেবলটি চুপ করে থাকে। কিইবা বলবে সে, আগের বড়বাবুর নাম বললে যদি চাকরি চলে যায়!
- কি হলো! আবার প্রশ্ন @nilanjana করে মালবিকা রায়, থানার নতুন ওসি।
এর কেস তো সবে শুরু। তার মানে আমরা জানি না এ সত্যিকারের দোষী কিনা? তাহলে ...
কারও কাছে কোনও জবাব না পেয়ে মালবিকা রায় ইশারায় সবাইকে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলে আর মদনকে বলে জল নিয়ে আসতে। সে আনলে নির্মলকে বলে,
- নিন জল খান।
আপনি সম্বোধনে নির্মল অবাক হয়। বাঁ হাতে জল খায় সে, ডান হাত হাতকড়ি দিয়ে চেয়ারে আটকানো।
- আপনার কেসটা আমি পড়েছি ফাইলে তবু আপনার মুখ থেকে সবটা শুনতে চাই। আটেম্পট টু মার্ডার...কি তাই তো! ঘুরে দেখে নির্মলকে মালবিকা রায়।
- যা রটে তার সবটা সত্যি হয় না ম্যাডাম। আপনি তো একজন মেয়ে, আচ্ছা বলুন তো আপনারা কি সবসময়ে সততার সাথে গাঁটছড়া বেঁধে থাকেন?
- মাইন্ড ইউর ল্যাংগুয়েজ। টেবিলে চাপড় মেরে হুঙ্কার দিয়ে ওঠে মালবিকা রায়। তুমি জানো কার সাথে কথা বলছো? যা জিজ্ঞেস করছি শুধু সেটুকুই বলো। আজ অবধি আমার আওতায় থাকা কোনো দোষী ছাড় পায়নি, ঠিক তেমনি নিরপরাধকেও বাঁচার অধিকার দিই আমি। তাই গল্পটা আমার জানা দরকার। যদি কিছু গোপন করো তাহলে জানবে তোমার নিজের কবর তুমি নিজে খুঁড়বে।
এক চান্সে আপনি থেকে তুমিতে চলে আসায় নির্মল একটু ঘাবড়ে যায়। ভয়ঙ্করীর সামনে নিজের গল্পের শুরুটাকে মনে করে একটু একটু করে এগোতে থাকে সে...
- ওর সাথে আমার প্রেম প্রায় পনের বছরের। একই পাড়ায় থাকি দুজনে। মৃন্ময়ীর চোখ জোড়া খুব আকর্ষণীয় জানেন, বেশিক্ষণ সে চোখের দিকে তাকালে ভালোলাগার তাপে জ্বর আসতো আমার! কোনও ওষুধে কমতো না সে শরীর খারাপ শুধুমাত্র ওর হাতের উষ্ণ ছোঁয়া আর ঠোঁটে আমার নাম শুনলে ঠিক হতো। সেই মৃন্ময়ী ধীরে ধীরে বদলে গেল! আগে কত সুন্দর ফুলের গাছ লাগাত, বৃষ্টিতে ভিজে গুন গুন করে গান গাইতো, আমার হাতে হাত রেখে ক্লান্ত আঁচলে পুকুর ঘাটের শ্যাওলা স্পর্শ করত। কিন্তু হঠাৎ একদিন বুঝলাম তাকে আর অমন করে পাবো না। সে নিজের কাছে নিজেকে সেলিব্রেটি মনে করত... আমি তবুও আগের মতই তার চুলের গন্ধ আর বুকের ছলাৎ শব্দের অপেক্ষায় থাকতাম। সে বুঝত না।
- সেলিব্রিটি হয়ে গেছে মানে কি? সে কি সোশ্যাল মিডিয়ার সাথে কোনোভাবে যুক্ত হয়েছিল?
- ঠিক জানি না ম্যাডাম। তবে ওর খুব মডেলিংএর সখ ছিল। সেই সূত্রে এদিক ওদিক বিভিন্ন প্রোডাক্টের ফটোশুটে যেত। ওর বাড়িতে সবকিছু জানত না। এমন করে একদিন ওর এক ফটোগ্রাফার বন্ধু হয় যে ওকে একটা বড় সুযোগ দেবে বলে প্রমিস করে। তবে বেশ কিছু টাকা চেয়েছিল সে। মৃন্ময়ী এসে আমাকে বলায় আমি আমার বাইক বেঁচে কিছু টাকা যোগাড় করে দি ওকে। বাড়িতে বলি বাইক @nilanjana চুরি হয়ে গেছে আর এও বলি থানায় ডায়েরি করেছি যা আদতে আমি করিনি কারণ তাহলে মৃন্ময়ীর বাড়িতে ওর ব্যাপারে জানাজানি হয়ে যেত। এত সাপোর্ট দেওয়ার পরেও বারবার আমার কাছে এসে মৃন্ময়ী সেই ছেলেটির কথা এমন ভাবে প্রকাশ করত যে ওই মুহূর্তগুলোয় আমার মনে হত ওকে বোধহয় হারিয়ে ফেলতে চলেছি।
- তখন তোমার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠত বুঝি! মনে হয়েছিল বোধহয় চারিদিকের সবকিছু ধ্বংস করে শুধুমাত্র মৃন্ময়ীকে আঁকড়ে ধরে থাকি! কি তাই তো?
- না ম্যাডাম না... আমি এমন কখনও ভাবিনি। আমি তো এখনও বেকার। তবুও চেয়েছি আমার ভালোবাসা এগিয়ে যাক। কিন্তু আমাকে ফেলে রেখে... নিঃস্ব করে যাক এ কখনও চাইনি।
হা হা হা হা হেসে ওঠে মালবিকা রায়। পকেট থেকে রুমালটা বার করে কপালের বিন্দু বিন্দু ঘাম মুছে নেয় সে। ঠোঁট কামড়ে ধরে নির্মলের সামনে একটা চেয়ার নিয়ে এসে বসে সে।
- জানো। সব প্রেমিকের একই কথা থাকে যে, সে কত ভালোবাসে তার প্রেমিকাকে! কিন্তু আদতে তা হয় না। ভেবে দেখো, তুমি যদি এতটাই ভালবাসতে তাহলে তাকে ধাক্কা মারতে পারতে কি?
- এখানেই একটা কনফিউশন আছে ম্যাডাম। আমি কিন্তু সত্যিই ধাক্কা মারিনি। আমি বুঝতে পেরেছিলাম মৃন্ময়ী কোনো সর্বনাশা জালে ফাঁসতে চলেছে, তাই ওকে বোঝাতে গিয়ে একটু উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিলাম। ও আমায় ভুল বুঝেছিল। ও বলেছিল আসলে আমি ওকে আমার গোলাম বানিয়ে রাখতে চাই কিন্তু সত্যিটা তা নয় ম্যাডাম।
- কি করতে পারো মৃন্ময়ীর জন্য? যে ওর ক্ষতি করবে তাকে খুন করতে পারো? আমার তো মনে হয় আসল সময়ে তোমার রক্ত টগবগ করে ফুটবে না। তুমি পালাবে, পিছু হটবে।
- যদি কিছু মনে না করেন একটা কথা বলব ম্যাডাম?
- কি?
- আপনার চোখ দুটো কথা বলে। ভাববেন না আমি আপনার প্রেমে পড়েছি। কিন্তু মনে হচ্ছে আপনিও আমার মত প্রেমে দাগা পেয়েছেন।
- সি, ডোন্ট ক্রশ ইওর লিমিট.. আমার চোখ দুটো কথা বলে মানে? চেয়ার থেকে উঠে ঠাস্ করে নির্মলের গালে একটা চড় মারে ওসি মালবিকা রায়।
নির্মল মুচকি হাসে। বলে,
- সবাই মিলে আর কত ভুল বুঝবেন বলুন তো! আর তাছাড়া আমি এমন কি বলেছি! আপনার ফ্রাস্ট্রেশনের সাথে নিজের মিল পাচ্ছি বলেই কথাগুলো বললাম।
কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে মালবিকা রায় তারপর মদনকেও ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলে।
নিস্তব্ধ পুরো ঘরটা। মালবিকা রায়ের তীব্র হৃদস্পন্দনটা একটু একটু করে গ্রাস করল তার মনটাকে। সে ঘুরে দাঁড়িয়ে নির্মলকে সরি বলে তারপর শান্ত হয়ে তাকে দেখে।
- শোন যত তাড়াতাড়ি তুমি নিজের ভুল মেনে নেবে তত কম সাজা হবে...
তাকে থামিয়ে দেয় নির্মল।
- ম্যাডাম আমি মৃন্ময়ীকে পাগলের মত চাই, ওর জন্য সারা জীবন অপেক্ষায় থাকতে পারি... ও যতই দুষ্প্রাপ্য হয়ে যাক আমি হাত বাড়িয়ে জানালার ধারে, আবেগি নদীর পাড়ে, মায়াবী আকাশের নিচে... সব জায়গায় ভিখিরির মতো কামনা করবো ওকে এখনও। আমি যে ওকে ভালবাসি সেটাইতো সত্যি। এছাড়া আর কি মেনে নেব!
- তাহলে ওকে ধাক্কা দিলে কেন?
- আমি তো বারবার বলছি ম্যাডাম ওটা একটা সাময়িক উত্তেজনার প্রকাশ ছিল। তবে সেটাও আমার ভুল ছিল। আমার অভিমান অন্যভাবে বোঝানো উচিত ছিল। কিন্তু বলুন তো এই যে কিছুক্ষণ আগে আপনি আমায় চড় মারলেন, সেই সময় কোনও ভাবে আমি যদি বেকায়দায় চেয়ার থেকে পড়ে যেতাম আমার হাত, পা কোনও একটা ভাঙতো তাহলে আমি কি এখন বলব যে আপনি আমায় খুন করতে চেয়েছেন!
উত্তর খুঁজে না পেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে মালবিকা। নিজের রুমে গিয়ে হতাশ ভাবে চেয়ারে ঠেস দিয়ে বসে একটা সিগারেট ধরায়। সর্পিলাকারে ধোঁয়া উপরে উঠতে থাকে। হাতটা মুঠো করে টেবিলে আস্তে আস্তে মারতে থাকে মালবিকা তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে কোকড়ানো চুল, মোটা গোফ আর কূটনৈতিক হাসি হাসা রঞ্জনের মুখটা। নিজের মনে হাসে সে,
শালা পুরুষ, তুমি আবার প্রেমিক!
ছোট বয়সে বাবাকে হারিয়েছিল মালবিকা তাই মা-বাবার দাম্পত্য জীবনের বিশেষ কোনও প্রভাব তার মনে ছিল না। ডাকসাইটে অফিসার হলেও বিয়ে হয়েছিল মামার আনা পাত্রের সাথে সম্বন্ধ করে। ব্যবসায়ী স্বামী রঞ্জন ঠান্ডা হাসি হাসতো। চোখ বুজে বেপরোয়াভাবে আন্দাজে বলে দিতে পারতো মালবিকার সারাটা দিন কেমন কাটলো। ভালো হলে কোন প্রশংসা ছিল না কিন্তু যদি মালবিকার মেজাজ খিচড়ে থাকতো তাহলে রঞ্জনের ক্রিটিসাইজ আর ইগনোরেন্স মাত্রা ছাড়িয়ে যেত। শত হলেও মালবিকা পুলিশ অফিসার, তাই সে বিদ্রোহ করেছিল। দুবছরের দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে দিয়েছিল। এরপর আরও চার বছর কেটে গেছে কিন্তু মালবিকা প্রেম শব্দটা থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। তার কাছে প্রেম মানেই এক বীভৎস, বিকৃত পুরুষালী স্বর যা মেয়েদের বিয়ের নামে একটা অনুশাসনে বেঁধে রাখতে চায়।@nilanjana তবে আজ রঞ্জনের মুখটা মুহূর্তে পাল্টে যায়... নির্মলের মুখটা ভেসে ওঠে মালবিকার সামনে...তার খুব জানতে ইচ্ছা করে প্রেমের প্রকৃত অর্থ! কেন জানি না মালবিকার খুব ইচ্ছে করছে নির্মলকে বিশ্বাস করতে কিন্তু মৃন্ময়ী? এতকাল তো যত কেস এসেছে তাতে মেয়েরাই নির্যাতিত। তাহলে কি পুরুষরাও বিশ্বাসঘাতকতার স্বীকার হয়? সেদিন রাতে ভালো ঘুম হয় না মালবিকার। পরদিন অফিসে এসেই নির্মলের ফাইল নিয়ে আবার বসে সে। কিছুক্ষণ পর নির্মলের সেলের সামনে গিয়ে দেখে দেওয়ালে পিঠ ঠেসে পা লম্বা করে চোখ বন্ধ করে বসে আছে নির্মল। তার পায়ের নিচে মারের দাগগুলো দাগরা হয়ে ফুলে আছে, কপালেও কালশিটে তবুও তার চোখ বোজা মুখে এক অদ্ভুত প্রশস্তি! আজ সেলেই ঢুকলো মালবিকা নির্মলের সাথে কথা বলতে।
- ম্যাডাম আমাদের বাড়ির সামনের আমগাছটায় দড়ি দিয়ে একটা দোলনা বেঁধেছিলাম, চারপাশে বেশ সুন্দর ফুলের গাছ ছিল। আমাদের ভালোবাসার কথা দুই বাড়িতেই জানতো তাই মৃন্ময়ী প্রায় আসত আমাদের বাড়ি। সে যখন ওই দোলনায় দুলত আমি বেশ দূর থেকে দেখতাম আর আমার বেখেয়ালি মনে বেজে উঠত ভায়োলিন...তাতে প্রেমের গান। কখনও কখনও পপি মানে আমাদের বাড়ির কুকুর দৌড়ে আসলে মৃন্ময়ী খুব ভয় পেয়ে যেত, দোলনা ছেড়ে ছুটে চলে আসত আমার কাছে আমায় জড়িয়ে ধরতো।
নির্মলের চোখে জল দেখতে পায় মালবিকা। শূন্য দৃষ্টিতে ভাবে রঞ্জনের সাথে তার প্রথম রাতের কথা। মালবিকা বরাবরই টমবয় টাইপের ছিল। নিজের স্বপ্ন পূরণ করে বড় পুলিশ অফিসার হয়। তবুও মেয়ে মানুষ হিসাবে নিজের ফুলশয্যা রাতের যে স্বপ্ন তার মনে ছিল এক নিমেষে তা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছিল রঞ্জনের কটুক্তিতে।
- অপরাধী পিটিয়ে তোমার হাতগুলো পাথরের মত শক্ত হয়ে গেছে দেখছি! এর ছোঁয়ায় প্রেম জানলা দিয়ে উড়ে চলে যাবে তবে তোমার অবশ্য অভ্যাস আছে পিছনে তাড়া করা, তা দেখো কদিনে প্রেমটাকে ধরতে পারো.....
হো হো করে হেসেছিল রঞ্জন আর গুটিয়ে গিয়েছিল মালবিকা। এরকম আরও বহু অপমানের সাক্ষী মালবিকা তার দু বছরের দাম্পত্যে। তবু নির্মলের সাথে কথা বলে প্রেমের প্রকৃত অর্থ নতুন করে বুঝতে পারছে মালবিকা। এমন হয়তো অনেক পুরুষ আছে পৃথিবীতে যাদের বিশ্বাস করা যায়,@nilanjana তাদের প্রেমে পড়া যায়। ভালোবাসা আর অবহেলার মধ্যে দূরত্ব বোধহয় খুব কম। একটা মানুষের মনে এই দুই যেন আয়নায় নিজের চোখে নিজেরই প্রতিচ্ছবি। আজ সে নির্মলকে বলে,
- দেখো আমি এখনও জানিনা সত্যিটা কি। তবে তোমার কথা মেনে নিতে ইচ্ছে হচ্ছে। তোমার কখনও মনে হয় না তোমাকে ঠকানো হয়েছে?
- ম্যাডাম, আপনি যেটাকে ঠকানো ভাবছেন হতে পারে সেটা একটা ভুল-বোঝাবুঝি। মৃন্ময়ী হয়তো আমার সেদিনের রাগে খুব দুঃখ পেয়েছে তাই সে আমায় শাস্তি দিতে চায়। সে যে বড় অভিমানী।
- নির্মল তোমার কোন ধারনা আছে, তোমার বিরুদ্ধে যে কেস আছে তা প্রমাণিত হলে তোমার সারা জীবন নষ্ট হয়ে যাবে!
- মৃন্ময়ী ছাড়া আর কোন নারীসঙ্গ ছিল না আমার। সব দিয়ে শুধু তাকেই চেয়েছিলাম। আর সত্যিই আমি কোন অপরাধ করিনি তাই মনে প্রাণে বিশ্বাস করি আমার কোনও সাজা হবে না কিন্তু ভালবাসাকে হারিয়ে আমার জীবন এমনিতেই নষ্ট হয়ে যাবে ম্যাডাম।
- তুমি একটু শক্ত হও নির্মল, বাস্তবটাকে বোঝো। সব প্রেম ভালোবাসা হয় না। কখনও কখনও তার মধ্যে খেলা হয়ে লুকিয়ে থাকে অপরাধপ্রবণতা। আমার মনে হয় মৃন্ময়ী তোমাকে ব্যবহার করেছে।
- আমি বুঝি। কিন্তু তফাৎটা কোথায় জানেন! মৃন্ময়ীর ঠোঁটের উপরে একটা কালো তিল ছিল। তাতে খুব সুন্দর লাগত সে হাসলে। আমার ভালোবাসাটা তার ওই মিষ্টি হাসিতেই মগ্ন ছিল। সেই ঠোঁট কোনোদিন নিজে থেকে ছুঁয়ে দেখতে চাইনি আমি।
নির্মল মালবিকাকে অনুরোধ করে তাকে একটু একা থাকতে দিতে। পাশ ফিরে বসে সে, হয়তো এভাবেই সত্যিটাকে ভুলতে চায় সে।
মালবিকা নিজের রুমে ফেরে। মনের মধ্যে তোলপাড় হতে থাকে তার। প্রেমের এই চেহারাটা এর আগে সে কখনও কেন অনুভব করেনি! যে প্রেম একদিকে এত মধুর অন্যদিকে এত পাষাণ কি করে হতে পারে? মালবিকা আজ স্থির, গম্ভীর। সামনের পেপারওয়েটটা হাত দিয়ে ঘোরাতে ঘোরাতে ভাবে নির্মল নির্দোষ প্রমাণ হবে তো! কিন্তু প্রেম যে @nilanjana এক রহস্য, সে যে মানুষকে বিপথেও নিতে পারে তখন কোথায় যে ফিরতে হবে সেটাই মনে পরে না। মালবিকা ভাবত ছেলেদের প্রেম বোধহয় মেয়েদের সামনের ডেকোরেশনটাই পছন্দ করে কিন্তু আজ নির্মল প্রমাণ করল পুরুষ মানুষও ভালোবাসতে জানে। ওদিকে নির্মল ছটফট করে... মালবিকার ভুল ভাঙলেও তার মৃন্ময়ী তাকে বুঝবে তো!