আজ আমি মৃত নয়, শুধু নির্লিপ্ত...
ভাসমান মেছো গন্ধ নিয়ে
আছড়ে, সাঁতরে জল কাটি আমি
গুটিকয়েক জলকণা গায়ে মেখে।
অনেকবার ভাবি ভেজা নক্ষত্র হয়ে আর
তোমাকে চিঠি লিখবো না..
বরং, আকাশের কাছে গান শুনবো,
ঝর্নার মত কলকলিয়ে হাসবো,
রোদের মত জড়িয়ে রাখবো নিজেকে।
তবু, লেপ্টে যাওয়া আবেগেও তো অপেক্ষা থাকে!
পলাশ মাখার সময়ে নীরবতাও থাকে...
যখন বুক কাঁপে, ঘুম ভাঙ্গে.... ঝড়ে বাতি নেভে
তখন তোমায় নিয়ে ভাবতে ভালোই লাগে, তবে -
যে অনুভূতিগুলো ছুঁড়ে ফেলেছি ছলাৎ শব্দে
সেগুলো আর রিনিঝিনিতে ফেরে না
থাকে কালো মেঘের পৃথিবীতে।
তাই কষ্ট পাই না যদি আজ জোৎস্না রাতে বৃষ্টি হয়!
আমি বোধহয় দিব্যি ভালো আছি এখন।
তাই, নতুন করে আর কি লিখি বলতো?
কোন খবরে খুশি হবে তুমি!
ক্ষতি হয়েছিল তখন....
যখন হাতের মুঠোয় বালিকে ধরতে চেয়েছিলাম!
মনে আছে? সেদিনের সেই সুগন্ধি খামের কথা!
নদীর পাড়ে ঘর বাঁধবে বলেছিলে,
তাজা ফুলের গন্ধে ভরিয়ে দেবে আমার চুল।
দস্যিপনায় কলকলিয়ে হাসলে ছুঁয়ে দিতে ঠোঁট।
আমিও তো সব ভুলে বসন্ত আঁকতাম।
উজাড় করা বুকের মাঝে থাকতো শুধু স্বপ্নের যাওয়া আসা
লাল, নীল, সবুজ সুতোর বুননে বেড়ে উঠেছিল
আমার ভালোবাসার বাড়ির ফুল আঁকা জানলার পর্দা।
ভেবেছিলাম পাওয়া এখনও শেষ হয়নি।
তবু তো গহীন সন্ধ্যা নেমেছিল...
পাতার আকুতি হয়েছিল ঝরে যাওয়ার আগে।
আকাঙ্খার পুড়ে যাওয়ার গন্ধ পেলেই
আমি সেই নদীর কাছে যাই, বলি...
লক্ষ্মীটি, ভাসিয়ে নাও আমায়।
তোমার বুকের মধ্যের নুড়িগুলোর গল্পতো রোজই লেখো
আজ না হয় কথা বলো আমার সাথে নিভৃতে।
তবে নোনা জলে কবিতাও ভাঙ্গে
আমার যে অন্তর আছে, আমি কাঁদি কষ্টে
কিন্তু কিছু ভাঙলে বাকিরা শুধু শূন্যতা দেখে।।



