Monday, April 5, 2021

টিকটিকি ও মার্জার গিন্নি..... নীলাঞ্জনা সরকার

 



সুবিমল খবরের কাগজ হাতে চা খাচ্ছিল রবিবার সকালে। ক্রাইম সংক্রান্ত খবরে বেশি চোখ যায় তার। স্বপ্ন দেখে... সব কাজ ফেলে কালো টুপি আর চশমা পরে অপরাধীর পিছনে দৌড়াচ্ছে সে! টিকটিকি হওয়ার খুব সখ ছিল তার। ডাক পরে সুবিমলের।
- ওগো, শুনছো। দেখো, আজও দুধের প্যাকেট কে নিয়ে গেলো! ডোরবেল বেজেছে আর আমি রান্নাঘর থেকে এসে দরজা খুলেছি, এর মধ্যেই দুধ হাওয়া....
- দেখছি...
- শোনো সব দুধওয়ালার কাণ্ড। একটা আস্ত জোচ্চোর। রোজ আমায় মিথ্যা বলে...."বৌদিমনি আমি তো দু প্যাকেটই দিয়েছি।"
বউয়ের রাগ দেখে সুবিমল ঠিক করে এই কেসটা দিয়েই সে তার গোয়েন্দা জীবনের শুরু করবে। দুধওয়ালা থেকে শুরু করে আশেপাশের কয়েকবাড়ি ফোন করে তদন্ত শুরু করে দেয় সুবিমল। একটা হেস্তনেস্ত করতেই হবে নয়তো সম্মান থাকবে না। দুটো ক্রাইম সিনেমাও দেখে ফেলে সে। রাতে ডিনারের পর একতলার বারান্দায় এসে চুপটি করে অন্ধকারে অপেক্ষা করে অপরাধীর। সুবিমল ভাবে দুধের প্যাকেট নিমিত্ত মাত্র, নিশ্চয়ই বড় উদ্দেশ্য আছে চোরের! আমাদের মনঃসংযোগ যেই দুধের প্যাকেটের ওপর কেন্দ্রীভূত হবে অমনি চোর তার আসল কাজ সারবে। কিন্তু সে থাকতে কিছুতেই তা হতে দেবে না, রাত বাড়ে চোখ কচলে জেগে থাকার চেষ্টা করে সে। এমন সময় সদর দরজার পাশে কিসের যেন ছায়া দেখতে পায়। শিরদাঁড়া টানটান করে, বুকের ধুকপুক কন্ট্রোলে রেখে সোজা তাকিয়ে থাকে সুবিমল... কিন্তু কিছুক্ষণ পর সেই ছায়া মিলিয়ে যায়। তার মানে অপরাধী নিশ্চয়ই বুঝেছে তার উপস্থিতির কথা তাই চুপটি করে অপেক্ষায়। কখন ঘুমিয়ে পড়েছিল জানে না সুবিমল, ঘুম ভাঙ্গে দুধওয়ালার আওয়াজে। ব্যস, এইবার কেল্লাফতে হবে কিন্তু সব মাটি হয়ে গেল যখন ওদের পাড়ার মিনি দৌড়ে এসে একটা দুধের প্যাকেট নিয়ে হাওয়া হয়ে গেল। ফুস করে যেন হাওয়া বেরিয়ে গেল সুবিমলের... সাথে বউয়ের হাউমাউ। সারারাত বারান্দায়, ক্লান্ত হয়ে উস্কোখুস্কো চুলে হাত বোলাতে বোলাতে ঘরে ঢুকে স্বগতোক্তি করে "পাড়ার মিনিটা দুধ খেতে বড্ড ভালোবাসে।" বউ ঘুরে তাকায় অগ্নি চোখে, সুবিমল ক্যাবলা হাসে মার্জার গিন্নির কথা ভেবে।

-------------------------

4 comments:

প্রেম ডট কম... নীলাঞ্জনা সরকার

  একটুখানি খোলা আকাশ দেখার সৌভাগ্য যে কবে হবে! নির্মল দীর্ঘশ্বাস ফেলে...সব সুখ বিলীন হয়ে গেছে মৃন্ময়ীর সাথে। মনে আনাগোনা করে মৃন্ময়ীর সাথে...