Wednesday, January 20, 2021

ঈশ্বর ও এক ফোঁটা জল....নীলাঞ্জনা সরকার

 


আমি সিন্ধু ঘোষ, একজন ছাপোষা কেরানি। বাড়িতে বউ, এক মেয়ে আর আমার বৃদ্ধা মা। সবসময়ে একটা নিঝুম ভাব আমার গৃহস্থালীতে। দূরে খুব একটা বেড়াতে যাওয়া হয়নি সেভাবে নিজের আর্থিক অবস্থার জন্য। মেয়ে পড়ে ক্লাস সেভেনে.. তার স্কুল, গৃহশিক্ষক, মায়ের ডাক্তার, ওষুধ সবকিছু সামলে সংসারের জন্য যা বাড়তি থাকে তাই দিয়ে খুব জোর দিঘা ঘুরে আসা যায়। পরিবারকে নিয়ে গিয়েছিলামও কয়েকবার। কিন্তু আমার মাকে নিয়ে সেভাবে কোথাও যাওয়া হয়নি। মা আমার সাথে শেষবার বেড়াতে গিয়েছিল আমার মাসির বাড়ি শোভাবাজারে প্রায় বারো বছর আগে। সময়ের সাথে প্রতিবারই মনে হয়েছে একটি মানুষ না গেলে বেড়াতে গিয়ে আমার খরচাটাও কম হবে। যেহেতু খুব কাছেই বেড়াতে যাই তাই মাকে একাই রেখে যাই, প্রতিবার খুব ভালো করে বুঝিয়ে দিই কিভাবে সাবধানে থাকবে! আসলে কিছু হলে যে আমাকেই আবার বেড়ানোর মাঝপথে ফিরে আসতে হবে। আমি ভাবতাম যথাযথ সংসার সামলাচ্ছি কিন্তু আসলে যে চরম স্বার্থপরতার পরিচয় দিচ্ছিলাম তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল আমার মুম্বাই ট্যুর। কিছুদিন ধরেই মেয়ে খুব বায়না ধরেছিল,

-চলোনা বাবা, দূরে কোথাও বেড়াতে যাই। আমার সব বন্ধুরা যায়! বারবার ওই দিঘা আর চিড়িয়াখানার গল্প করতে করতে আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি।

-সত্যি গো। এরপর মেয়ের উঁচু ক্লাস হয়ে গেলে আর তো কোথাও যাওয়া যাবে না। দেখো না, এবার যদি ম্যানেজ করতে পারো! 
বউ আর মেয়ের কথা ফেলতে না পেরে অফিসের এক বন্ধুর থেকে কিছু টাকা ধার করলাম কাউকে না জানিয়ে। বাড়ি ফিরে এসে বললাম,
- সব ব্যবস্থা হয়ে গেছে। এবার ঠিক করতে হবে কোথায় যাব, তবে পুজোর সময় সব জায়গাতেই ভিড় হবে ফলে খরচা অনেক বেশি তাই পুজোর ঠিক আগে আগেই চল।
 মেয়ে তো খুব খুশি হয়ে গেল। নিজেরা সব আলোচনা করে ঠিক করে ফেললাম মুম্বাইতে বউয়ের এক মাসতুতো বোন আছে তার বাড়ি যাব। সেখানে কয়েকটা দিন কাটিয়ে কাছাকাছি ঘুরে বাড়ি ফিরব। এতে মুম্বাই থাকার হোটেল খরচাটাও বাঁচবে। একবারও প্রয়োজন মনে করলাম না বাড়িতে মাকে জানানোর, ভেবেছিলাম শুরুতেই জানালে যদি নিয়ে যেতে হয়! এবার মায়ের শরীরটা সামান্য খারাপ ছিল তাই অবশেষে বাড়ির ঠিকে কাজের মেয়েটিকে মায়ের সাথে থাকতে বলে কয়েকটা দিনের জন্য আমরা বেরিয়ে পড়লাম সুদূর মুম্বাইয়ের উদ্দেশ্যে। ট্রেন যাত্রায় কয়েকবার ভাবলাম, কই! মা তো কোন বিরক্তি প্রকাশ করল না, তাহলে বোধহয় খুশিমনেই মেনে নিয়েছে। মাসতুতো শালীর বাড়ি দু-তিনদিন থেকে মুম্বাইয়ের লোকাল ট্যুর করা শুরু করলাম। মেরিন ড্রাইভ, গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া, জুহু বীচ, সিদ্ধিভিনায়ক মন্দির ইত্যাদি বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে এতদিনের বুভুক্ষ মনকে শান্ত করার চেষ্টা করলাম আমরা তিনজন। তখনো বুঝিনি আমার জন্য কি নিয়ে অপেক্ষায় আমার বিবেক। একদিন সকালে চা খেতে খেতে ভগ্নিপতির সাথে গল্প করার সময়ে সে প্রস্তাব দিল বুদ্ধ আমলের কারলা কেভ ঘুরে আসার জন্য। পাথরের তৈরি এই কেভ দেখে আমার মেয়ে নাকি খুব খুশি হবে। খুশী মনে রাজী হয়ে গেলাম, ভগ্নিপতি সব ব্যবস্থা করে দিল। পরদিন ভোরবেলা রওনা দিয়ে পৌঁছেও গেলাম। আমরা একটা প্রাইভেট গাড়ী করে গিয়েছিলাম, পথে ড্রাইভার লোনাভালা আর এই কেভ সম্পর্কে অনেক কিছু বলল। লোনাভালা থেকে মাত্র ১০.৯ কিলোমিটার দূরে এই কেভ। বিখ্যাত কারলা কেভের সামনে পৌঁছে বুঝলাম পাথরের ভাস্কর্য কত সুন্দর হতে পারে! এইতো প্রথম এত দূরে বেড়াতে আসা তাই সবকিছু এত মন থেকে উপভোগ করছিলাম যে তা মুখে বলে বোঝানো মুশকিল! চারিদিকে বিশাল বড় বড় কারুকার্য করা থাম, পাথরের মূর্তি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম.. মনে হল এও কি হাতে বানানো সম্ভব! বেশ কিছু সময় নিয়ে মন দিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখলাম এই কেভ। বউ, মেয়ে ভীষণ খুশি তাই দেখে আমার মনে হল যাক কিছু খুশি তো দিলাম ওদের। গত পাঁচ দিনে রোজ একবার করে মাকে ফোন করে খবর নেওয়া ছাড়া আর কোন আনন্দময় মুহূর্তে আমার মা আমার মনে স্থান পায়নি। কেভে পৌঁছানোর সময়ে অনেক সিঁড়ি চড়তে হয়। চার পাশে অনেক দোকান ছিল সেই সিঁড়ির। ফেরার সময় ধীরে ধীরে সেই দোকানপাট দেখতে দেখতে নিচে নামছিলাম। বড় দোকানের সাথে অনেক ছোট ছোট বাদামের স্টল ছিল...খোলা শুদ্ধ বাদাম আর সেগুলো নিয়ে বসে ছিল বেশ কিছু বয়স্ক মহিলারা। পথে-ঘাটে আগে এমন ঘটনা অনেক দেখেছি কিন্তু বিষয়টাকে সে ভাবে উপলব্ধি করিনি। হঠাৎ বৃষ্টি নামলো, আমরাও চট করে সামনের একটা দোকানের নিচে দাঁড়ালাম। দেখলাম ওই বয়স্ক মহিলারা কোনরকমে মাথায় একটা করে বেতের ছোট্ট ছাউনি দিয়ে পথচলতি মানুষকে ক্রমাগত বাদাম কেনার জন্য অনুরোধ করছে। যারা পড়ছেন তারা ভাববেন, এ আর এমন কি! এরকম তো কত মানুষই করে। এটাই তো তাদের রোজগার। কিন্তু না, বিষয়টা আমার কাছে এতটা সহজ ছিল না.. ক্রমশ নিজের কাদামাখা মনটা চোখের সামনে ভেসে উঠছিল!
     বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ল। তখন হঠাৎ চোখ গেল সামনের বাদামের  ছোট্ট স্টলটির ওপর। বৃদ্ধা এতক্ষণ নিজের মাথায় বেতের ছাউনি ধরে বাদামগুলিকে নিজের আঁচল দিয়ে ঢেকে বৃষ্টি থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছিল। এবার নিজের মাথার সামান্য ছাউনিটাও বাদামের ওপর বিছিয়ে দিল। বৃষ্টিতে নিজে ভিজে একাকার হলেও বাদামগুলি যাতে না নষ্ট হয় সেদিকে ব্যস্ত হয়ে গেল। ভাবলাম একটু দাঁড়িয়ে যাই। বৃষ্টি থামলে কি হয় তা জানার জন্য কেন জানিনা মন অশান্ত হয়ে উঠেছিল! কিছু পর বৃষ্টি কমলে ওই মহিলা তার ভেজা আঁচল নিঙড়ে গায়ে জড়িয়ে বাদামগুলো আবার সুন্দর করে সাজিয়ে রাখতে শুরু করল। ভীষণ ঠাণ্ডা বাতাস দিচ্ছিল তখন, কিন্তু বৃদ্ধা বোধহয় তার রোজের অভ্যাসবশত এসব বাধা অনেক আগেই অতিক্রম করেছিল। আমার এত ভাবনার মধ্যেই হঠাৎ সেখানে উপস্থিত হল এক ভদ্রলোক, বেশ সুন্দর পোশাক পরিহিত হয়ে। সে এসে 'আই' বলে প্রণাম করলো ওই মহিলাকে আর তার ঝুলি থেকে বাদাম তুলে খেতে খেতে গল্প করতে লাগল। আমার মনে খুব রাগ হল, কি বাজে লোক রে বাবা, দাম দেবে না নিশ্চয়ই!
কিন্তু তার আই কি শান্ত ফোকলা হাসিতে লোকটির পিঠ চাপড়ে কত কথা বলতে লাগলো। ওদের নির্ভেজাল আদুরে আলাপে কেন জানিনা হঠাৎ আমার মায়ের কথা মনে পড়ল! এক লহমায় চিন্তা হল, তিনটে বাজে.. মায়ের ঠিকমত খাওয়া হয়েছে তো! মনের মধ্যে একটা তোলপাড় হতে লাগল! এই বোধহয় বিবেকের পরিহাস। খেয়াল করলাম আশেপাশের বাকি মহিলারাও ওই ব্যক্তির সাথে জোরে জোরে হেসে মারাঠি ভাষায় কিছু বলছে। আমি দাঁড়িয়ে গেলাম আমার পরিবারের বাকিরা ততক্ষনে সিঁড়ি দিয়ে খানিকটা নেমে গেছে। হিন্দি খুব ভালো বলতে পারিনা, তবে কাজ চালাতে পারি। পাশের দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলাম,
- ভাইয়া, কিসসা ক্যায়া হ্যায়?
- ইয়ে লোগ সিঙ্গদানা বেচতে হ্যায় বাবু। বহুত পহেলে সে, আভিতো উমর হো গয়ি সবকি। ইয়ে দুকান মেরে পাপাজি কা হ্যায়, ম্যায় জব ছোটা থা তবসে ইয়ে আন্টিকো পেহেচানতা হু।
- পর ইয়ে আদমি!
- উনকা বেটা... উসকা জব আচ্ছা হ্যায় ফিরভি....
দোকানদারের সাথে কথা বলে বুঝলাম ওই বৃদ্ধার ছেলে এখন বেশ প্রতিষ্ঠিত। ছেলে মাকে বহুবার বারণ করেছে এখন আর বাদাম নিয়ে না বসতে, এত কষ্ট না করতে... তবু ওর আই এখনো তার বন্ধুদের সাথে সেই একই জায়গায় বসে অনেক নতুন ঘটনার সাক্ষী হতে। বাদাম হয়তো রোজ বিক্রি হয় না কিন্তু মন দেওয়া নেওয়া হয় ঘুরতে আসা ছোট শিশুদের সাথে। এবার দেখলাম ওই ভদ্রলোক ঘুরতে ঘুরতে তারা মায়ের সব বন্ধুদের কাছ থেকে বাদাম কিনছে এটাই হয়তো তার মাকে দেওয়া তার রোজের প্রণামী। মনে হল আমার ঘরের আই এর কথা। মা তো চেষ্টা করে নিজের সন্তানকে যোগ্য করে তোলার জন্য কিন্তু সন্তান যদি সেই মাকে মন থেকে দূরে সরিয়ে দেয় তাহলে তাকে শুধু অধম বললে কম বলা হবে।
থম মেরে দাঁড়িয়ে থাকি। ভাবলাম যেবার আমার হাতে প্লাস্টার হয়েছিল মাঝে মাঝে রাতে ঘুম ভাঙলে শুনতে পেতাম মা যেন কার সাথে কথা বলছে। বাবা তার বছর তিনেক আগেই আমাদের ছেড়ে তারাদের বন্ধু হয়েছিল। বাড়িতে আর কেউ ছিল না বলে মা আমার সুস্থতার কামনা করে ঈশ্বরের সাথেই গল্প করতো , সত্যি সেই শক্তি আছে কিনা জানিনা! তবে মা মানত করেছিল আমার জন্য। সারা দিন উপোস করে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে কালী মন্দিরে গিয়ে পুজো দিয়েছিল। ফেরার পথে দুর্বল শরীরে রাস্তায় পড়ে গিয়ে মাথা ফেটে রক্ত নেমে এসেছিল তার বেরঙীন শাড়িতে। সেটা ভক্তি বলে ভেবে এসেছি এতকাল কিন্তু আসলে তা ছিল অপত্য স্নেহ। আজ কান্না এলো...কিন্তু পুরুষমানুষ কাঁদলে লোকে কি বলবে! শক্ত পায়ে হেঁটে সেই আইয়ের কাছে এলাম, প্রায় ভিজে যাওয়া বাদাম কিনে তাকে কাছ থেকে দেখলাম। অবিকল আমার মায়ের মতোই লাগলো। আমার মেয়ে যখন হামা দিত, পুতুল নিয়ে খেলতো আমি দেখতাম..  ফিরে যেতাম আমার শৈশবে। আমার মাও নিশ্চয়ই একইভাবে অকথিত ভালোবাসায় আমাকে খুঁজে বেড়ায় কাঙালের মতো। এগিয়ে গেলাম পরিবারের কাছে। মেয়েকে বললাম,
- দিদানের জন্য তোর মন কেমন করে না?
- হঠাৎ এমন প্রশ্ন! মেয়ে অবাক হয়ে তাকায় আমার দিকে।
- জানিস তুই হওয়ার পর আমি বোধহয় ভালোবাসা ভাগ করে ফেলেছি। আগে মাকে ছেড়ে দূরে যাওয়ার কথা ভাবতে পারতাম না আর এখন দেখ আমার ভিতরটা কত পাথর হয়ে গেছে! আনন্দ ভাগ করতেও কষ্ট হয় আমার।
মেয়ের মা এসে আমার হাতটা ধরে, জিজ্ঞেস করে.. আমার শরীর খারাপ করছে কিনা?
- না গো, আসলে এক বুক ভালোবাসা নিয়ে যে মানুষটা বোবা হয়ে আমাদের সংসারে দিনের পর দিন কত কথা বলে উঠতে পারেনি অথচ আমি অনবরত বুঝিয়েছি... দেখেছো, আমি কত ভালবাসি তোমাকে! আচ্ছা, মিনতি তুমিও কি বোঝোনি সম্পর্কের সুতোয় একটা ধারাবাহিকতা প্রয়োজন? আমরা চাইলে সংসারে সবাই সম ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হত না হয়তো!
পিছন ফিরে তাকাই, ঝাপসা আই... তার ধুলোমাখা চুল, রোদে লালচে মুখ, উৎকণ্ঠায় ভরা চোখ। তার সন্তান যে এখন সামনে নেই। অনেকক্ষণ তাকে দেখেনি সে, তাই প্রাণপণে দৌড়ে আসছিল তার অদৃশ্য স্পর্শকাতরতা। আর আমি! আবেগের সমবণ্টন করতে পারিনি
উপরন্তু ঠকিয়েছি আমার আই কে দিনের পর দিন।
আরো তিনদিন পর ফিরলাম মুম্বাই থেকে। লজ্জায় বাড়ি ঢুকতে ইচ্ছা করছিল না। কাজের মেয়েটি বললো দুদিন ধরে মায়ের জ্বর বেড়েছে, কিন্তু আমাদের জানাতে বারণ করেছিল। মায়ের ঘরে গিয়ে তার পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
- এখন কেমন আছো মা?
-ভালো রে। তেমন কিছু নয়। তোরা ভালো আছিস তো?
- শরীর এত খারাপ হয়েছে জানাওনি কেন?
-আমার বয়স হয়েছে শরীর খারাপ লেগেই থাকবে। তোদের জানালে বেড়াতে গিয়েও চিন্তা করতিস।
মনে মনে ভাবি তুমি এখনো এত ভাবো মা, বদলে কি পাও! শুধুই  অপমান...
- মা, মনে পরে তোমার হাতের সেই আলু ফুলকপির তরকারি আর মুড়ি....
- তুই এভাবে অনেকদিন পরে এলি আমার কাছে। মনে হচ্ছে সেই ছোট্ট ছেলেটা আমার। তবে ভয় হয় এই স্বস্তির উপর। আচমকা ফুরিয়ে যাবে বোধহয় এই মুহূর্ত! 
- আমার মরে যেতে ইচ্ছে করছে মা..সত্যি যদি এই সময়টা না ফিরতো! আমার অনুভবের শব্দ সব নিস্তব্ধতার ভয়ানক দিনগুলোকে গলা টিপে মারতে চাইছে..এক অদ্ভুত মায়া হচ্ছে বুকের মধ্যে।
- তোর স্কুল জীবনের হাসিগুলো মনে কর। কত শান্ত, কিন্তু আকাশের মত গভীর। 
মায়ের চোখের কোল বেয়ে নেমে আসে একফোঁটা জল। অনুভব করি আমার হাতে। এই এক ফোঁটা কত কথা বলে দিল আমায়।
মা কত বদলে গেছে এখন। উড়োখুড়ো চুল, বিষন্ন কুচকানো মুখ। ঠিক যেন সেই আই। শুধু পার্থক্য এই  যে আইয়ের মুখে হাসি ছিল। সব ঈশ্বর একইরকম হয় শুধু অনুভবের ওপর তার অধিকারবোধ হারায় বোধহয় আমার মত পাষণ্ডের জন্য। আমি শিশু হতে চাইছিলাম আমার ঈশ্বরের কাছে সেই আগের মত। আমার ভিতরের সব ভয়ঙ্কর চৌচির হয়ে যাচ্ছিল। মনে মনে প্রার্থনা করলাম আমি ভালো হতে চাই। মা হাত বুলিয়ে দিচ্ছিল আমার চুলে। সেই স্পর্শে মনে হল করুণা এলো দিগন্ত আলো করে।।

7 comments:

প্রেম ডট কম... নীলাঞ্জনা সরকার

  একটুখানি খোলা আকাশ দেখার সৌভাগ্য যে কবে হবে! নির্মল দীর্ঘশ্বাস ফেলে...সব সুখ বিলীন হয়ে গেছে মৃন্ময়ীর সাথে। মনে আনাগোনা করে মৃন্ময়ীর সাথে...