Monday, November 2, 2020

মরীচিকা..... নীলাঞ্জনা সরকার

 


বালির দেশে সম্রাট। ব্যবসা ডুবে যাওয়ার পর অনেকদিন কোথাও বেড়াতে যায়নি সে। তারপর একদিন কি যেন সব ঘটে গেল, তার ভালোবাসার মানুষ দু বছর আগে একটা অ্যাক্সিডেন্টে তাকে ছেড়ে অনেকদূর চলে গেল... চাইলেও যেখান থেকে আর ফিরে আসা যায় না। তাই বউ এর নামে করা ইনস্যুরেন্সের সব টাকা পেয়ে সম্রাট আবার পায়ের নিচে জমি খুঁজে পায়। গত পরশু সে বেড়াতে এসেছে জয়শলমীর, আর আজ উট সফরে বালির রহস্যে নিজেকে আবদ্ধ করতে। কিন্তু ঘটে গেল অঘটন। মাঝে একজায়গায় সম্রাট উটের পিঠ থেকে নেমে একটু আরাম করছিল আর চোখ লেগে যাওয়ার কখন সবাই বেরিয়ে গেছে ও খেয়াল করেনি। যদিও এটা খুবই আশ্চর্যের ব্যাপার, সওয়ারি ছাড়া উট ফেরত গেল এত লোকের মাঝে আর তার খোঁজ পড়ল না এটা আবার হয় নাকি! খুব চিন্তা হতে লাগলো তার, এদিকে মোবাইলের ব্যাটারিও প্রায় শেষ, তাহলে অন্ধকারে টর্চটাও তো জ্বলবে না! একজায়গায় ঝুপ করে বসে পড়ল সম্রাট। অন্ধকার হলে এদিক ওদিক হাত ঘোরাতে লাগলো কোনো পোকা মাকড় থাকে যদি সেই ভয়ে। কিছুক্ষণ পর হাতের কাছে একটা সবুজ আলো দেখতে পেয়ে হাতে তুলে নিল সে, অন্ধকারে মনে হলো একটা বালির ঘড়ি। উজ্জ্বল সবুজ রঙের বালি, ঘড়িটাকে সোজা করতেই বালি ঝুর ঝুর করে ঘড়ির নিচের ঘরে পড়তে লাগলো আর সম্রাট অনুভব করলো তার নিচের বালিও সরে যাচ্ছে। মনের ভুল ভেবে ঘড়িটা উল্টো করলো সম্রাট কিন্তু একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলো! হাত থেকে ঝেড়ে ফেলতে গেল বালির ঘড়িটা কিন্তু পারলো না, ঘড়ি একটু নড়লেই নিজের বিপদ অনিবার্য বুঝে গেল সে। হঠাৎ একটা মিষ্টি গন্ধ নাকে এলো তার, খুব চেনা একটা পারফিউমের। অজান্তে কখন সর্পিলাকারেবালির ঝড় ঘিরে ধরলো সম্রাটকে, কানে এলো... মণি ই ই ই!   

- কে? কে কথা বলছো?     

- চিনতে পারছো না? আমি মণি। তোমার অর্ধাঙ্গিনী। 

- মণি! এ কি করে সম্ভব!

- কেন গো! মরেছি বলে কি তোমায় দেখতে ইচ্ছে করে না?

কাছে এগিয়ে আসে একটা আবছায়া মরীচিকা, যার শরীরের একটা অংশ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, আছে শুধু হাড় আর ভালোবাসার শাখা পলা। সম্রাটের দম বন্ধ হয়ে আসে। 

বালি ঝরে সর সর  ............সর সর......হাওয়া কাঁদে মণির সাথে, গ্যাসের তীব্র গন্ধটাও। সবাই কাঁদে, সম্রাট ছাড়া... সে যে তখন ব্যস্ত দেশলাই কাঠির আগুনে নিজের প্রতিষ্ঠিত ভবিষ্যতটাকে দেখতে। ধীরে ধীরে মণির পুড়ে যাওয়া শরীরের আলিঙ্গনে বালিতে বিলীন হতে থাকে সম্রাট, আর মণি সযত্নে ধরে থাকে বালির ঘড়িটা সম্রাটের হাতে হাত রেখে, বিয়ের মন্ত্র উচ্চারণের সময় থেকেই তো একসাথে পথ চলার কথা। 

-বাবু, চলিয়ে। 

ঘুম ভেঙে যায় সম্রাটের। চারপাশে খোঁজে বালির ঘড়ি, ঝড় আর মণিকে। কিন্তু সে তো কবেই হারিয়ে গেছে লোভের মোড়কে।   খবরের কাগজে উঠেছিল সিলিন্ডার ফেটে গৃহবধূর মৃত্যু, কিন্তু সম্রাট কি কোনোদিন আয়নায় নিজের মুখোমুখি হতে পারবে? ফেরার পথে সম্রাট ভাবে বাড়িতে রাখা মণির কেনা ছোট্ট বালির ঘড়িটা অশুভ, গিয়েই ফেলে দেবে ওটাকে। আর তার ভালোবাসা! সেটা কি! বোধহয় বালির মতই অনিশ্চিত।।

No comments:

Post a Comment

প্রেম ডট কম... নীলাঞ্জনা সরকার

  একটুখানি খোলা আকাশ দেখার সৌভাগ্য যে কবে হবে! নির্মল দীর্ঘশ্বাস ফেলে...সব সুখ বিলীন হয়ে গেছে মৃন্ময়ীর সাথে। মনে আনাগোনা করে মৃন্ময়ীর সাথে...