Wednesday, November 11, 2020

ভেলভেটের টিপ... নীলাঞ্জনা সরকার


   

আজ একটা ভীষণ ব্যর্থতার স্বাদ পেল সজল। গভীর হতাশা বুক চিরে বেরিয়ে আসতে চাইছিল বারবার। অফিসের টেবিলেই শরীরটাকে মুচড়ে প্রায় ফেলে রেখেছিল। ভদ্রতা বলতে আজকাল আর কিছু নেই। নিজের বাড়িতে পর্দার আড়ালে বউয়ের ওপর কতবার রেগে কথা বলেছে। কিন্তু মাটির ডেলার মত দাঁড়িয়ে থেকেছে নমিতা। মেয়েরা তো কাঁদে! সজল অপেক্ষা করতো নমিতাও কাঁদবে, কোনোদিন হয়তো তা সজলের চোখে পড়বে...তখন সে গর্ব করবে পুরুষত্বের। কিন্তু, না! ভিতরে ভিতরে সজল যতই ভাবুক সে স্বামী তবু নিজের অজান্তেই নিজের শূন্যতার বাড়ির ইট গেঁথেছে সে একটা একটা করে। কেমন যেন ঝিম ধরে যায় মনে, বড় একা লাগে নিজেকে। আর মাত্র কয়েকটা দিন। হয়তো তাকে চলে যেতে হবে সব ছেড়ে! সজলের পাড়ার এক বন্ধু তাকে ফোন করেছিল একটু আগে, বাড়িতে নাকি আবার পুলিশ এসেছে। সজল ঘেমে যায়। মনে মনে বলে,


-নিজের খুশির জন্য মানসিক যন্ত্রণা দিয়েছি নমিতাকে। কিন্তু নমিতা জীবনে এই প্রথমবার প্রতিক্রিয়া করলো! তাকে বারণ করা সত্ত্বেও পুলিশের সাথে যোগাযোগ করলো আবারও। এ যে কতদূর সর্বনাশ নিয়ে আসবে তা কি ও বুঝলো! কথায় কথায় এবার ঘরের সব কিছু লোক জানাজানি হবে। এর চেয়ে ভালো হতো ও যদি একটা চড় মারতো আমায়। শেষে থানা পুলিশ!


 


দিন সাতেক আগের ঘটনা,


নমিতা প্রায় দৌড়ে এসে দরজা খুলল, এত দেরি হলো যে? লায়লা কিছু উত্তর না দিয়েই বাসন মাজতে চলে যায়। নমিতা তাকিয়ে থাকে ওর চলে যাবার দিকে- বোঝে কেন এত দেরি! এত প্রায় রোজের ঘটনা। লায়লার বর মাতাল হয়ে রাতে ঘরে ফেরে তারপর সারাদিনের সব ফ্রাস্টেশন মেটায়...এই আর কি! কিইবা উত্তর দেবে লায়লা রোজ। সে শুধু হাসে। ছোট্ট ভেলভেট টিপটা তার কপালের শ্রীবৃদ্ধি করে যদিও বাস্তবে তার উল্টোটাই। কোনোদিন ভুল হয় না লায়লার টিপ পড়তে। ওর গায়ের রঙটা একটু ময়লা কিন্তু  হাসিটা মনভোলানো।


 নমিতা চা নামায়, একটু বেশি ভিজে গেল চা পাতাটা! দু কাপ চা নিয়ে দোতলায় উঠে বারান্দায় বসে। আজকের সকালটা পূজোর সূর্যের গন্ধ নিয়ে হাজির। কদিন পরেই মহালয়া আসছে সেটা আকাশও জানান দিচ্ছে। নমিতার এক্সিকিউটিভ স্বামী, সজল... চায়ের কাপে চুমুক দিয়েই ছি ছি করে ওঠে! যথারীতি বেসুরো হয়ে যায় নমিতা। সজল বলে,


-এখনো চা করতে শিখলে না! এইতো  সকালে মাত্র এককাপ চা খাই।


 যন্ত্রচালিত নমিতা উঠে যায় আবার চা বানানোর জন্য। লায়লা ততক্ষণে অর্ধেক বাসন মেজে ফেলেছে, মুচকি হেসে বলে,


-বৌদিমনি, আমার জন্য চা রেখেছো তো?


-আমার বানানো চা এত ভালো লাগে তোমার!


-দাদাবাবুরও ভালোই লাগে। আসলে এ সব ভান করে।


দোতলায় উঠতে কটাই বা সিঁড়ি! কিন্তু আজকাল নমিতা কেমন যেন হাঁপিয়ে ওঠে। লায়লাকে দিয়ে ওপরে চা পাঠিয়ে রান্নাঘর লাগোয়া ড্রয়িং হলে এসে বসে নমিতা। জোরে ফ্যান চলছে তাও নমিতার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। ততক্ষণেলায়লা নেমে এসেছে। জিজ্ঞেস করে,


-আজ বড্ড গরম। একটু শরবত খাবে বৌদি?


-না, একটু জল খাবো।


-আচ্ছা। আনছি। ফ্রিজের জল মিশিয়ে দিচ্ছি আরাম পাবে।


-তোমার বাড়ির কি খবর লায়লা? সব ঠিক আছে?


-আর কি খবর! আসল খবর নিয়ে বলতে চাই না গো, মন কেমন করে।


-এটাও তোমারই একটা বাড়ি লায়লা। তুমি যে কোনো অসুবিধায় আমার কাছে চলে আসতে পারো।


-বৌদি, তোমার সাথে আরো আগে দেখা হলে ভালো হতো গো...


 দুজনে হেসে ওঠে, কষ্টের দেওয়া নেওয়া হয়ে যায় ওই হাসিটুকুতে।নমিতা একটা স্কুলে পড়াতো, সন্তানের মা হওয়ায় পর নিজের ইচ্ছাতে সে আজ গৃহবধূ।সজল, প্রতিটি জিনিসে খুব শৌখিন যদিও এই শৌখিনতার তকমা তার নিজের দেওয়া কিন্তু বিয়ের দশ বছরের অভিজ্ঞতায় নমিতার মনে হয় সজল বড় বেশি স্বামী...’নমিতার স্বামী’, বন্ধু হিসাবে কখনো পায়নি তাকে সে। ছোট ছোট জিনিসে আনন্দ পাওয়ার বদলে সজল সারাদিন ব্যস্ত মুনির অকর্মণ্যতা নিয়ে। যাইহোক এভাবেই নমিতার সংসার চলে তার মিষ্টি আট বছরের মেয়ে তুলিকে নিয়ে। সজল আর তুলির সারাদিনের বৃত্তটা ঘিরে নমিতার দিনগুলো কাটছিল একরকম সব কিছু মানিয়ে নিয়ে।


দুদিন পর রাত এগারোটায়  নমিতার ফোনটা বেজে উঠেছিল বার বার। অনিচ্ছা সত্ত্বেও ফোনটা ধরে সে, আর চমকে যায় ফোনের ওদিকে লায়লার চিৎকারে...


-বৌদিমণি, ওরা এসেছে তুমি একবারটি এস।


 কি হয়েছে বোঝার আগেই ফোন কেটে যায়। নমিতা ঘরে গিয়ে সজলকে ডাকতেই সে খুব বিরক্ত হয়ে কথা শুনিয়ে দেয়,”দুপয়সা কামাতে হলে বুঝতে সারাদিন কি খাটুনি...একটু ঘুমাবার উপায় নেই ইত্যাদি ইত্যাদি।“ নমিতা হলঘরে এসে বসে, খুব কষ্ট হয় তার- সত্যি লায়লার সাথে নিজের তুলনা করলে দেখা যাবে দুজনের সামাজিক অবস্থানের কোনো ফারাক নেই তবু তো লায়লা নিজে দুপয়সা কামায়। খুব অস্থির লাগছিল তার নিজের মনের মধ্যে, লায়লার বাড়ি এক দুবার গেছে  কিন্তু এত রাতে একা কি করে যাবে সে? তার নিজের কোন বিপদ হতে পারে। সে স্থির করে সকাল অবধি অপেক্ষা করার। ঘুম আসে না নমিতার। মনের মধ্যে অনেক কিছু ঘোরাফেরা করে। মাথার শিরা দপদপ করতে থাকে। সে নিজেই নিজেকে অসহায় বানিয়ে রেখেছে। লায়লাকে কত বড় মুখ করে বলেছিল  যেকোনো দরকারে তাকে জানাতে, অথচ আজ সময়ে কোনো উপকারে আসতে পারলো না নমিতা। অনেক পুরোনো কথা মনে এলো তার। মাঝে মাঝে অন্ধকার দিনের কথায় কষ্ট পেলে মুখ ভার করে থাকতো নমিতা, তখন লায়লা ওকে ভোলাতো। একদিন তো সরাসরি বলেছিল,


-স্কুলটা বন্ধ না করলেই ভালো করতে বৌদি।


-কেন? তিরিক্ষি মেজাজে উত্তর দিয়েছিল নমিতা।


-জানো বৌদি, বাড়ির কারোর ওপর অভিমান করে থেকো না।


-সে নিয়ে তোমায় ভাবতে হবে না।


-অন্যের মর্জি সামলে চলাটা আমাদের নিয়তি গো। যত যাই হোক আমার দাদাবাবু তোমায় ভালবাসে খুব। রাগ লুকিয়ে রাখতে পারে না।


লায়লার এরকম কথায় আরও মাথা ঝিমঝিম হতো নমিতার। রাগ হতো...ভাবতো এ কি ধরণের অপমান! কিন্তু কিছু পরে ঠান্ডা হতো নমিতা। লায়লার ইতিবাচক কথায় সব ভুলে সজলের অফিস থেকে ফেরার জন্য আবার অপেক্ষা করতো।                 


               কিন্তু এই একটা রাতের অপেক্ষা যে নমিতার জীবনে কত বড় ভুল তা সে পরদিন সকালেই টের পায়। লায়লা যে আজ কাজে আসবে না তা সে আগেই বুঝেছিল কিন্তু কোনোদিন আর লায়লার সাথে দেখা হবে না তা কল্পনাও করতে পারেনি নমিতা! পরদিন সকালে লায়লার বাড়ি যাবে বলে দরজায় তালা দিয়ে নমিতা বেরোতে যাবে এমন সময় পুলিশের ভ্যান তার বাড়ির সামনে।


 -নমস্কার, আমি থানা থেকে আসছি। আচ্ছা, লায়লা নামে কেউ আপনার বাড়ি কাজ করতো? ইন্সপেক্টরের প্রশ্নের উত্তরে এক নিমেষে বলে ওঠে নমিতা,


-কেন! কি হয়েছে লায়লার? আমি ওর বাড়ি যাব বলেই বেরিয়েছি।


 উত্তর শুনে নমিতার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে- কারা যেন কাল লায়লাকে ধর্ষণ করে খুন করেছে। নমিতার গা গুলিয়ে ওঠে ওখানেই বসে পড়ে সে, লায়লার আওয়াজটা কানে ভেসে ওঠে।


 


পুলিশ জানায় যে লায়লার ফোনের শেষ ডায়াল করা নম্বরটি নমিতার তাই ওরা কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায়। নমিতা ঘরে এনে বসায় ওদের, সব প্রশ্নের উত্তর দেয়। পুলিশের কর্তা জানায় কিছু দরকার হলে আবার ডাকবে তাকে। সজল অফিস থেকে ফিরলে, জলখাবার দিয়েই লায়লার কথা জানায় নমিতা। সজল বলে,


-এইসব পেটি কেসে জড়িও না। এইসব ঘটনা ওদের ঘরে হতেই থাকে। আর তুমি কি ভাবছো পুলিশ তোমায় পূর্ণ সহযোগিতা করবে!


-বলতে পারবো না।


-তুমি ওদের সব সত্যি বলতে যেও না। নিজেই ফেঁসে যাবে।


-কিন্তু এই নোংরা কাজ কি করে মেনে নি!


-বেশি ভ্যাকভ্যাক করো না। যে কেউ বাড়িতে এলেই সব বলে দিতে হবে নাকি? ওরা যদি ওদের লোক হয়! হয়তো তোমায় পরীক্ষা করতে এসেছিল। ওরা তো আর জানে না তোমার মাথা কত নিরেট!


 নমিতা ধীর পায়ে বাথরুমে গিয়ে চোখে মুখে জল দেয়, দামি আয়নায় তাকায়, সত্যি কি পেটি কেস? কখনো কখনো নমিতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সজল যখন জোর করে, নমিতা বারণ করলেও শোনে না সেটাও তো একধরণের ধর্ষণ! নিজের ওপর ঘেন্না হয় নমিতার, পাশের ঘরে যে নিষ্পাপ শিশুটি বসে হোমওয়ার্ক করছে সেও তো একটা মেয়ে। চোখের জলটা মুছে নেয় নমিতা। বাথরুম থেকে বেরিয়ে শান্ত হয়ে সজলের পাশে বসে টিভি দেখতে শুরু করে। পরদিন সকালে সে থানায় যায়। সেখানে খবর পায় লায়লার স্বামী অন্য পাড়ার এক গুন্ডার কাছে অনেক আগে বেশ কিছু টাকা ধার নিয়েছিল কিন্তু ফেরত দিতে পারেনি তাই সেদিন ওই গুন্ডার পোষ্যগুলো এসেছিল টাকা আদায় করতে তখন লায়লার বরকে না পেয়ে ওকে টার্গেট করে। নমিতার বুকের ভিতরটা ছটফট করে ওঠে। লায়লার শরীরটা যখন মুচড়ে ভেঙে দিচ্ছিল ওরা, ওর কপালের ছোট্ট ভেলভেটের টিপটা ওদের ঘামে নিশ্চয় খুলে হারিয়ে গেছে...নমিতার বুকটা কেঁপে ওঠে। ও ভাবে ওরা যখন মদের গন্ধ মাখা ঠোঁট দিয়ে লায়লার শরীরে রক্তের কামড় দিচ্ছিল তখন নমিতা এ.সি ঘরে আরাম করছিল!


-লায়লা, সারাজীবনেও নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না রে... কান্নাগুলোকে ঢোক গিলে ফেললো নমিতা।


 


          আজ  নমিতা বাড়ি ফিরল মেয়েকে স্কুল থেকে নিয়ে। তুলি মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে বললো,


-কি হয়েছে মাম্মা? তোমার শরীর খারাপ?


-না রে। আজ লায়লা মাসির জন্য বাড়িতে আবার পুলিশ কাকু এসেছিল। ওদের সাথে অনেকক্ষণ কথা বলেছি তাই একটু ক্লান্ত।


-মাসির কি হয়েছে মাম্মা?


নমিতা তুলির প্রশ্নের উত্তরে বলে,


-সব বলবো তোমায়। আচ্ছা তুলি, তুমি কাকে বেশি ভালোবাসো? মাম্মাকে নাকি বাপিকে?


 মায়ের এরকম প্রশ্নে অবাক মেয়ে ! কি বলবে বুঝে পায় না! ভাবতে বসে সে আর তাই দেখে নমিতা তাকে আদর করে বলে,


 -সবার আগে নিজেকে একটু ভালোবাসিস মা ... কাউকে হিংসা করবি না কিন্তু নিজেকে এমন ভাবে তৈরি কর যাতে সবাই তোকে দেখে ভাবে, সত্যি! আমি যদি তুলি হতে পারতাম...ব্যস এইটুকুই।


এইসব শুনে তুলি হেসে কুটোপুটি হয়। সজল ফোনে বলেছে আজ অফিস থেকে ফিরতে দেরি হবে। ওর গলাটা বেশ গম্ভীর ছিল আজ।


নমিতা তানপুরা নিয়ে বসে আজ অনেকদিন পর। "আগুনের পরশমণি" গানটা খুব প্রিয় তার, ধীর লয় গানটা ধরে সে, আর তার  চোখের জলে ভেসে ওঠে বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে লায়লার সাথে দেখা হওয়া, তার প্রথম দিনের ‘বৌদি’ ডাকেই ছিল খুব আপন করে নেওয়া। বিয়ের সময় নমিতার শশুরমশাই অসুস্থ ছিলেন... বিয়ের চার বছরের মধ্যেই তিনি গত হয়েছিলেন। শাশুড়িমা, সজল কলেজে পড়াকালীন সবাইকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, তবু সবকিছু আগলে রেখেছিল লায়লা। এবাড়িতে সে যেন মায়ের বিকল্প হয়ে ছিল। ঠিকে কাজের লোক কে বলবে? বড় মায়া ছিল ওর মনে। রাতের খাবার সার্ভ করার সময় সজল নমিতাকে জিজ্ঞেস করে,


-আজ আবার পুলিশ এসেছিল?


-তুমি কি করে জানলে? আমি তো এখনো বলিনি তোমায়!


-আমার শুভাকাঙ্খী কম নেই। তোমাকে এসব থেকে দূরে থাকতে বলেছিলাম। কিসের শোধ নিচ্ছো তুমি আমার ওপর?


-আমার ওপর নজরদারি করছো করো কিন্তু লায়লার সাথে যা হয়েছে তাতে আমি চুপ করে থাকতে পারবো না। তুলিকে কি শেখাবো তাহলে যদি আমার নিজের বিবেকটাই শেষ করে দি!


তুলিও এক টেবিলে। জীবন প্রায় আঁতকে ওঠে, মুনিকে বলে,


- এই কথাগুলো তুলির সামনে না বললে চলছিল না তোমার!


নমিতা খুব কঠিন আজ,


 - কেন সজল! তুলি তো খুব ছোট তার মনের কথা এত ভাব তুমি, তাহলে তার সামনে তার মাকে কেন এত অপমান কর?


সজল চমকে ওঠে! নমিতা বলে চলে,


-সজল, আমি চাই  তুলির চোখে আমাদের দুজনের জন্য সমান শ্রদ্ধা থাকুক। আজ ও যা দেখবে তাই শিখবে। লায়লা মাসির প্রতি ওর যে অকৃত্তিম ভালোবাসা, তাতে মরচে পড়তে দেব না আমি। ও জানবে ঠিকই লায়লা মরে গেছে, কিন্তু তার কারণটা! তুলি বড় হচ্ছে আসল বাস্তবটা যদি লুকিয়ে যাই তাহলে ঐ বিকৃত গলির বন্ধ মুখের চাবির সন্ধান ওর কাছেও থাকবে না।  তুমি কি চাও না তোমার মেয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচুক.. ওর অস্তিত্বের গ্যারান্টি ও নিজে নিক?


সজল আজ নিশ্চুপ। কোন কথা খুঁজে পায় না। সে আজ নিজের কাছেই কোণঠাসা হয়েছিল। নমিতা আজ অপ্রতিরোধ্য...তাকে ভালো করে দেখে সজল। নমিতার চোখ দুটো ফোলা, চোখের কাজল ধেবড়ে গেছে। আজ খুব রাগ হয় সজলের নিজের ওপর। কে যেন একটা ভারী পাথর বসিয়ে দিয়েছে বুকের ওপর...অপরাধবোধের পাথর।


সজল শুধু নমিতার হাত দুটো জড়িয়ে বলে,


- তুমি আমাকে আর ভালোবাসো না- তাই না?


 নমিতা সজলের হাত ধরে বারান্দায় নিয়ে আসে, সাথে তুলিকেও, রাতের নিস্তব্ধতায় সজলের কোলে তুলি আর পাশে নমিতা, এ যেন সবচেয়ে সুখের মুহূর্ত।


 পরদিন সকালে নমিতা চোখ খুলেই দেখে সজল হাসি মুখে বসে, সে বলে, -চলুন ম্যাডাম আজ আমার হাতের চায়ের টেস্ট কেমন দেখুন!


নমিতা হেসে ওঠে। বলে,


- আসছি।


 তার চোখে ভালোবাসায় জেতার আনন্দ আজ, পিছন থেকে সে ডাকে সজলকে,


- শুনছো, আমাদের লায়লা...


সজল ঘুরে দাঁড়ায়। বলে,


 - আজ থানায় যাব কেসটা নিয়ে কথা বলতে। তোমার লায়লা চলে গেলেও তার সম্মান এভাবে বিসর্জন হতে দেব না।


নমিতার সামনে ভেসে ওঠে লায়লার হাসি মুখ, ‘বৌদি অভিমান করে থেকো না গো’...নমিতার রান্নাঘরটা বড় শূন্য কদিন ধরে।।

2 comments:

প্রেম ডট কম... নীলাঞ্জনা সরকার

  একটুখানি খোলা আকাশ দেখার সৌভাগ্য যে কবে হবে! নির্মল দীর্ঘশ্বাস ফেলে...সব সুখ বিলীন হয়ে গেছে মৃন্ময়ীর সাথে। মনে আনাগোনা করে মৃন্ময়ীর সাথে...